চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান: রাস্তায় ট্রাক, ভাঙা কালভার্ট
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, প্রতিবন্ধকতা

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান: প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল সন্ত্রাসীরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে চলমান যৌথ বাহিনীর অভিযানে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। আজ সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে রাস্তার ওপর বড় ট্রাক রাখা, কালভার্ট ভেঙে ফেলা এবং নালার স্ল্যাব তুলে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা সন্ত্রাসীদের পূর্বপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতার উদ্দেশ্য ও অভিযানের বিস্তারিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, জঙ্গল সলিমপুরে থাকা সন্ত্রাসীদের একটি অংশ সম্ভবত অভিযানের খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল। তাই গতকাল রাতেই তারা আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে এসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। মূল রাস্তায় ট্রাক রাখা এবং কালভার্ট ভাঙার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, "এটি অনেক বড় অভিযান। জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সিএনজি অটোরিকশার চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোর্স রয়েছে। কোনোভাবে হয়তো জেনে গেছে।"

অভিযানে প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন, যারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলেছেন। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যাতে কেউ পালাতে না পারে। অভিযান চলমান থাকায় অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে যৌথ বাহিনীর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জঙ্গল সলিমপুরের পটভূমি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী

জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যা দশক ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে দুটি প্রধান সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়: একটির নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, যিনি গত জানুয়ারিতে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার মামলায় প্রধান আসামি, এবং অপর পক্ষে রয়েছেন রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন আলীনগর এলাকায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।

গত জানুয়ারিতে র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ডের পর এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়, যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা বিলম্বিত হয়েছিল। এলাকাটিতে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি ও প্লট-বাণিজ্য চলছে, যা টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক সংযোগ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন একসময় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করছেন। তবে আসলাম চৌধুরী ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন যে জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন।

যৌথ বাহিনীর এই অভিযান এলাকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।