মাদারীপুরে গৃহবধূর মৃত্যুতে উত্তাল পরিস্থিতি, শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাথী আক্তার নামের এই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর মহিষেরচর এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়, যেখানে উত্তেজিত জনতা শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালায়।
বিয়ের পর প্রবাসে স্বামী, শুরু হয় মানসিক নির্যাতন
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, উত্তর মহিষেরচর গ্রামের গোলাম ব্যাপারীর ছেলে কাইয়ুম ব্যাপারীর সঙ্গে সাত মাস আগে একই এলাকার ওহিদুল খাঁর মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় কাইয়ুম প্রবাসে চলে যান, এরপর থেকেই সাথীর ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সাথীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে জানাজা সম্পন্ন হয়ে তাঁর দাফন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ জনতা শ্বশুরবাড়িতে হামলা, আগুনে পুড়ে যায় বসতঘর
সাথীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাতেই বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই সময় বাড়ির কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না, কারণ তাঁরা সকাল থেকেই পলাতক ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতা ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন, যার ফলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই দোতলা ভবনসহ বসতঘরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ আহাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পেট্রল দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনা এলাকায় ভয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।
এই ঘটনা মাদারীপুরে সাম্প্রতিক সময়ের একটি বড় অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



