সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ব্যাপক অভিযান শুরু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল করতে যৌথবাহিনীর একটি ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত ৪টা থেকে এই অভিযান চালু করা হয়, যা এখনও সক্রিয়ভাবে চলমান।
যৌথবাহিনীর চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সকালে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা। প্রবেশ ও বের হওয়ার সমস্ত পথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।
পূর্ববর্তী হামলার স্মৃতি এবং মামলার প্রেক্ষাপট
এই অভিযানের পেছনে রয়েছে একটি গুরুতর পূর্ববর্তী ঘটনা। গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে একটি অভিযানে গিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় র্যাব। সে সময় সন্ত্রাসীরা র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে, গুলি চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এই হামলায় র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিন জন সদস্য গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করে র্যাব। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আসামি হিসেবে ২০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়, যাদের পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।
অভিযানের বর্তমান অবস্থা এবং এলাকার বৈশিষ্ট্য
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যৌথবাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে তল্লাশি শুরু করেছেন। বিশাল এই বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় একটি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জঙ্গল সলিমপুর প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে অবস্থিত। এর দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি অপরাধীদের কাছে 'নিরাপদ স্বর্গরাজ্য' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসতি গড়েছেন। জঙ্গল সলিমপুরে এখনও পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে। যৌথবাহিনীর এই অভিযান এই অপরাধী নেটওয়ার্ককে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।



