মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে গুলিবর্ষণ: নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত, ৩ আটক
শ্রীনগরে গুলিবর্ষণে ৮ আহত, ৩ আটক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ভয়াবহ গুলিবর্ষণ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ার এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ হামলা সংঘটিত হয়।

আহতদের তালিকা ও চিকিৎসার অবস্থা

আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়তুন বেগম (৬০), মিনু বেগম (৫০), নুপুর আক্তার (৩২), সাথী বেগম (৫৫), মুস্তাকিম (৫), আমান (৪), খোরশেদ খান (৬৫) ও আলামিন খান (২৭)। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

তীব্র আহত তিন নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জয়তুন বেগম, মিনু বেগম ও নুপুর আক্তারকে প্রথমে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জয়তুন ও মিনু বেগমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপেলালে রেফার করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি ও পুলিশের তৎপরতা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, রবিবার রাত ১০টার দিকে রুদ্রপাড়া এলাকায় মিজানুর রহমান (৩০) নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিবেশী হারুন খান ও মান্নান খানের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মান্নান খান বন্দুকের নল দিয়ে মিজানুর রহমানকে আঘাত করেন। চিৎকার করতে করতে মিজানুর বাড়িতে ফিরে গেলে তার পিতা বিষয়টি জানতে পেরে হারুন ও মান্নান খানকে গালিগালাজ করেন।

এরপরই ঘটনা ভয়াবহ রূপ নেয়। মান্নান খান, হারুন খান, আমিন খান, মহসিন খান ও পল্টুসহ কয়েকজন মিজানুর রহমানের পরিবারের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-১০-এর সিপিসি-২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আটককৃতদের পরিচয় ও জব্দকৃত অস্ত্র

আটককৃতরা হলেন মান্নান খান (৬৫), হারুন খান (৮০) ও মহসিন খান (২৯)। পুলিশ হারুন খানের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক জব্দ করে। এছাড়া একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লাইসেন্সকৃত একনলা বন্দুক থেকে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। আমরা অস্ত্র ও গুলি জব্দ করেছি। আটককৃত একজনের পিস্তলেরও বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, সেটিও জব্দ করা হয়েছে।”

পুলিশের বক্তব্য ও আইনানুগ পদক্ষেপ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, “আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে আহতরা সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া এ ঘটনায় তিনজনকে তাদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্রসহ আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ এখন ঘটনার গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।