পূর্বাচলে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করলেন আইজিপি
পূর্বাচলে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন আইজিপির

রাজধানীর পূর্বাচলে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ভবন উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শুক্রবার পূর্বাচল–সংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়কের পাশে এই ফাঁড়ি উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

পুলিশের বিশৃঙ্খলা কাটছে

আইজিপি আলী হোসেন বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কিছু বিশৃঙ্খলা ছিল, যা অনেকাংশে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নতুন সরকারের আমলে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ উদ্‌যাপন হবে।

পুলিশের দাবি পূরণ হচ্ছে

আইজিপি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। পুলিশের যে দাবিদাওয়া ছিল, তা শিগগিরই পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার। পুলিশের কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা নিয়ে সরকার অবগত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খিলক্ষেত ফাঁড়ির প্রয়োজনীয়তা

আইজিপি আলী হোসেন বলেন, ঢাকা মহানগরের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ এবং পূর্বাচল এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণে খিলক্ষেত এলাকার গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফুট সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে–সংলগ্ন অঞ্চল দ্রুত বর্ধনশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। খিলক্ষেত থানার বর্তমান অবস্থান ও সম্প্রসারিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছাতে বরুড়া ও আশপাশ এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন জরুরি হয়ে ওঠে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এলাকার গুরুত্ব

তিনি বলেন, ৩০০ ফুট সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা মহানগরের সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহরের সংযোগ স্থাপন করেছে। নামাপাড়া, পাতিরা, ডুমনি, বরুড়া ও তলনা এলাকা প্রশাসনিকভাবে খিলক্ষেত থানার আওতাভুক্ত হলেও থানা থেকে দূরে। এই এলাকাগুলো পূর্বাচল নতুন শহরের পাশে, বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং একাধিক সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে ফাঁড়ি স্থাপনের মাধ্যমে খিলক্ষেত থানার কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ ও কার্যকর করা হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খিলক্ষেত, বরুড়া, ডুমনি, পাতিরা ও তলনা এলাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বেড়েছে এবং নতুন আবাসিক প্রকল্পে বসতি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এখানে জমি–সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঢাকায় ও পাশের এলাকায় যোগাযোগ থাকায় এলাকাটি মাদক পরিবহন ও লেনদেনের সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের বসবাস

আলী হোসেন আরও বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের পাশাপাশি শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেড়েছে। ফলে অস্ত্র ও মাদক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ৩০০ ফুট সড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশ এলাকায় রাতে বিনোদনকর্মী মানুষের ভিড় বাড়ে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক শক্তিশালী পুলিশ উপস্থিতি অপরিহার্য।

অপরাধ প্রতিরোধে ফাঁড়ির ভূমিকা

পুলিশপ্রধান বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশপাশের এলাকায় চুরি–ছিনতাইয়ের সুযোগ আছে, বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকে। এক্সপ্রেসওয়ে ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যানবাহনের দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। খিলক্ষেতের নামাপাড়া, বরুড়া ও তলনা থানা থেকে দূরে হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় জরুরি অবস্থায় দ্রুত পৌঁছানো যায় না। ফলে অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হয়।

আইজিপি বলেন, এই এলাকাগুলোর কাছে সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং পুলিশিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। ফলে অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান

এর আগে আইজিপি ফিতা কেটে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে আরও থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।