মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার এক যুবকের গলাকাটা লাশ ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
নিহত ও আটকের পরিচয়
নিহত রবিউল ইসলাম (৩৫) মোহাম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের গোলাম সারোয়ারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন পাওয়ার টিলার চালক ছিলেন। আটকরা হলেন- বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের শাহাজাদা এবং একই উপজেলার পঙ্কজ সাহার ছেলে তপু সাহা।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে বটতলা এলাকার একটি নির্জন স্থানে থামে। পরে গাড়ি থেকে একটি বস্তা রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ধাওয়া দিলে গাড়িটি উলটে যায়। এরপর গাড়িতে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা বস্তার মুখ খুলে ভেতরে এক যুবকের লাশ দেখতে পান। লাশটির গলা কাটা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং আটক দুইজনকে হেফাজতে নেয়।
পারিবারিক বক্তব্য
নিহতের মামা মুশা মোল্যা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল একই গ্রামের হাফেজ মোল্যার ছেলে শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামে তার জামাইবাড়িতে যান। সেখানে একটি পাওনা মোটরসাইকেল নিয়ে শাহিদুলের জামাইয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহিদুল রবিউলকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শাহিদুল ইসলাম ও তার জামাই শহিদুল হক পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের তদন্ত
বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।



