কুমিল্লার চান্দিনায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। রবিবার মধ্যরাতে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা কারা?
আটককৃতরা হলেন—চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান তারেক (২৪), একই গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৪) ও মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসমাইল (৩৭)।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা একটি দম্পতি রবিবার রাত ৯টায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে চান্দিনার মাদারপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত প্রায় ১০টায় অটোরিকশাটি মাদারপুর গ্রামের পাশের কামারখোলা গ্রামে পৌঁছালে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। তখন তারা অটোরিকশাটি ঠেলে নিয়ে এগোতে থাকেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে তিন যুবক এসে তাদের পথরোধ করে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, মোটরসাইকেলযোগে আসা তিনজন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। তারা ফোন করে আরও দুইজনকে ডেকে আনে। এরপর কয়েকজন তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে একটি ভুট্টাখেতের ভেতরে নিয়ে যায়। একজন তাকে আরও দূরে নিয়ে অন্ধকারে ফেলে দেয়। তিনি পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
এক সন্তানের জননী ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাকে তারা জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করে। আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কেঁদেছি। কিন্তু তারা কেউ কথা শোনেনি। কেউ আমাকে বাঁচাতেও আসেনি।'
পুলিশের বক্তব্য
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সংঘবদ্ধ এই চক্রের সাথে পাঁচজন জড়িত। তাদের মধ্যে দুইজন সরাসরি ধর্ষণ করে। বাকিরাও তাকে ধর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমরা ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



