র্যাব-পুলিশ-সেনা সেজে ডাকাতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
র্যাব-পুলিশ-সেনা সেজে ডাকাতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস আটকে ডাকাতি করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আলামিন ও মো. রায়হান। তাঁদের মধ্যে আলামিন চক্রের মূল হোতা এবং রায়হান গাড়িচালক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে র্যাব জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস আটক করে কখনও র্যাব, কখনও পুলিশ, আবার কখনও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের পরিচয় দিয়ে চালক ও যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করতেন।

ডাকাতির পদ্ধতি ও সরঞ্জাম

ডাকাতির সময় তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, ভুয়া স্টিকার, ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রাজধানীর ডেমরার আমান মার্কেট এলাকার মেন্দিপুর থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাছের হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার করা জিনিসপত্র

গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে থানা থেকে লুট হওয়া দুই সেট হ্যান্ডকাপ, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, র্যাবের ছয়টি কটি, পুলিশ লেখা স্টিকার, সেনাবাহিনীর মাস্ক, ওয়াকিটকি, লেজার লাইট, একটি পকেট রাউটার ও দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অপরাধের ইতিহাস

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার আলামিন আগে ইট, বালু ও মুরগির ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা বন্ধ। আর মো. রায়হান পেশায় একজন চালক। তিনি বিভিন্ন সময় ডাকাতির ধরণ অনুযায়ী মিনি ট্রাক বা মাইক্রোবাসসহ চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সরবরাহ করতেন। নিজেও ওইসব যানবাহন চালাতেন। এ ছাড়া তিনি ডাকাতির আগে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং ডাকাতির মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন।

র্যাব আরও জানিয়েছে, ডাকাত দলের নেতা আলামিন ২০২৩ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নাহিদ ও খোকনের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে নগদ ৭১ লাখ টাকা ডাকাতি মামলার আসামি। গত বছরের ২৫ মে তিনি ডাকাতি মামলায় র্যাবের কাছে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার ডাকাতি শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট আটটি মামলা আছে।