যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে একদল স্কুলশিক্ষার্থীর সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। স্কুলের চলন্ত বাসে চালক হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে শিশুরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বাসটিকে নিরাপদে থামায় এবং জরুরি সহায়তা ডাকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে কিন এলাকার একটি মহাসড়কে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় হ্যানকক মিডল স্কুল থেকে ছেড়ে আসা একটি স্কুলবাসে এই ঘটনা ঘটে। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পর চালক লিয়া টেইলর হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুলতে শুরু করে। এ সময় ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জ্যাকসন ক্যাসনেভ দ্রুত স্টিয়ারিং ধরে ফেলে বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এই বিষয়ে পরে সে বলে, ‘আমি ভাবার সময় পাইনি, শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছি যেন কেউ আহত না হয়।’
শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা
অন্যদিকে ড্যারিয়াস ক্লার্ক বাসের ব্রেক চাপার চেষ্টা করে এবং কিছুটা সমস্যার পর সেটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। দুজনের সমন্বয়ে বাসের গতি কমিয়ে সেটিকে রাস্তার মাঝখানের নিরাপদ স্থানে থামানো সম্ভব হয়। এ সময় ড্যারিয়াসের বোন কেলেই দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সহায়তা চান। এছাড়া ডেস্টিনি কর্নেলিয়াস নামে ১৫ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী চালকের কাছে একটি নেবুলাইজার দেখতে পেয়ে সেটি ব্যবহার করে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করে। একই সময় ম্যাকেনজি ফিঞ্চ চালকের মাথা ধরে রাখে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে ফোনে ঘটনাটি জানায়।
জরুরি সেবা ও চালকের অবস্থা
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবাকর্মীরা চালককে চিকিৎসা দেন। পরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্কুলে তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। আবেগাপ্লুত হয়ে চালক লিয়া টেইলর বলেন, ‘আমি তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা আমার জীবন বাঁচিয়েছে এটা আমি কখনো ভুলব না।’



