রাজধানীতে অপরাধ দমনে ব্লক রেইড অভিযান জোরদার
রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা
নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ব্লক রেইড অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ সম্প্রতি ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে মোহাম্মদপুর, শের-ই-বাংলা নগর, আদাবর, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা এবং হাতিরঝিল থানার অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্চ মাসের পরিসংখ্যান ও তালিকা প্রস্তুতি
ডিএমপি’র তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১ হাজার ৩০৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ করে, মার্চে রাজধানীর ১১টি থানা ২ হাজার ৬২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা ৬৭৪ জন, হাজারীবাগ ৪৯৪ জন এবং মিরপুর ৪৬৯ জন অন্তর্ভুক্ত।
একই সঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো, তবে আরও উন্নত হবে।’
বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা
দেশে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ডিএমপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং পুলিশ-জনগণের সমন্বিত সহযোগিতার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিভিন্ন অপরাধে ৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ২টি মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত। র্যাব আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, দালাল চক্র এবং ভেজালবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ৬২৭ জনকে গ্রেপ্তার ও ৪৪টি মোবাইল কোর্ট এবং মার্চে ৮৫২ জনকে গ্রেপ্তার ও ৯৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও থানা পর্যায়ের পদক্ষেপ
বিজিবি সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের মার্চে অভিযান চালিয়ে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
থানা পর্যায়ে, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘গত মার্চে বিভিন্ন অপরাধে ৬৭৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের দমনে আমরা তৎপর রয়েছি।’ নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব এবং ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উভয়েই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ বসবাসের কথা উল্লেখ করেছেন।
বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেন, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান যোগ করেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।’



