ভোলার চরফ্যাশনে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন ইমাম সন্দার নামে এক ব্যক্তি। আত্মরক্ষার্থে ওই নারী ব্লেড দিয়ে অভিযুক্তের বিশেষ অঙ্গে আঘাত করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। এতে ওই ব্যক্তি নিজের বিশেষ অঙ্গ হারাতে বসেছেন।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ইমাম সন্দার (৩৫) একই এলাকার মজিদ সন্দারের ছেলে এবং পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান।
দীর্ঘদিনের কুপ্রস্তাব
ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে অভিযুক্ত তাকে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় তার নামে অপপ্রচার ও অশালীন মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ধর্ষণচেষ্টা ও আত্মরক্ষা
অভিযোগে আরও বলা হয়, শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। রাত ২টার দিকে অভিযুক্ত তাকে ফোন করেন এবং একপর্যায়ে ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টায় রান্নাঘরে থাকা একটি ব্লেড দিয়ে অভিযুক্তের গোপনাঙ্গে আঘাত করলে তিনি চিৎকার করতে করতে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা
পরে ইমাম সন্দার পালিয়ে এসে চরফ্যাশন হাসপাতালে ডা. জাহিদুল ইসলামের নিকট চিকিৎসা নিয়ে সটকে পড়েন। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আহতের পুরুষাঙ্গের নিচের অংশে কাটা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবীর জানান, ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সটকে যাওয়ার পর আহত অবস্থায় অভিযুক্ত ইমাম সন্দারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে পুনরায় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।



