পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহে তল্লাশি চালান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রাত পেরোলেই পবিত্র ঈদুল আজহা। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাতে শামিল হতে পারেন, সে জন্য প্রস্তুত রয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের এ ময়দানে ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এবারের ঈদের দিন (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর বৃষ্টি হলে ঈদের জামাত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে, সকাল ৮টায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদের জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহর প্রস্তুতি শেষ। শেষ সময়ে পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ–সংযোগ ও নিরাপত্তা তল্লাশির কাজকর্ম করা হয়েছে। এবার এ ময়দান প্রস্তুত করতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা।
ময়দানের আয়তন ও কাঠামো
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে মূল প্যান্ডেলের আয়তন ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশপাশের সড়কেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় ঈদগাহ প্রস্তুত করা মানে শুধু প্যান্ডেল টাঙানোর কাজ নয়। এখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তা, সাধারণ মুসল্লিদের চলাচল, নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা, অজু, শৌচাগার, চিকিৎসা, পানি, আলো, ফ্যান—সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। ঈদের বেশ আগে থেকেই কাজ চলে।
কাতারের ব্যবস্থা
এবার জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতার রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকছে। সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্যান্ডেলের কাঠামো ও সুবিধা
জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের কাঠামো দাঁড় করাতে লেগেছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। এই কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় টাঙানো হয়েছে ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল। মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি টিউবলাইট জ্বলবে।
গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা আছে। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়েছে। ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, জায়নামাজ সঙ্গে আনার প্রয়োজন নেই।
প্রবেশ ও বহির্গমন পথ
ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মোট চারটি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে সহজে বের হতে পারেন, সে জন্য সাতটি বহির্গমন পথও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অজু ও অন্যান্য ব্যবস্থা
অজুর ব্যবস্থাও আলাদা করে করা হয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে ১১৩ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার, সুপেয় পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, মুসল্লিরা যাতে স্বস্তি নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে ঈদের জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ঈদের প্রধান জামাত ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের নির্ধারিত ফটক দিয়ে তল্লাশি শেষে ময়দানে প্রবেশ করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে দাহ্য পদার্থ, ধারালো বস্তু বা সন্দেহজনক কোনো কিছু সঙ্গে না আনতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।



