ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ঈদুল আযহার জামাত ও ছুটির সময় ফাঁকা থাকা আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিবরণ
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদুল আযহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠ ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। অন্যদিকে, ঈদের ছুটিতে অনেক বাসিন্দা ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় বেশ কিছু আবাসিক ও ব্যবসায়িক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়ে। সামগ্রিক পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে ডিএমপি একটি ব্যাপক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করেছে।
কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহ মাঠের চারপাশে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবি টিম এবং সিটিটিসির কে-৯ ডগ স্কোয়াড সোয়েপিং অপারেশন পরিচালনা করবে। ঈদগাহ এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং অস্থায়ী ডিএমপি কন্ট্রোল রুম থেকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হবে।
প্রবেশপথে নিরাপত্তা
সব প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টর এবং ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথে বিশেষ ব্যারিকেড ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা থাকবে। আকাশ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন নজরদারি ব্যবহার করা হবে।
ডিবি ও সিটিটিসির প্লেইনক্লথ সদস্যরা ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে। সুইট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঈদের জামাত চলাকালীন ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। জাতীয় ঈদগাহ পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুমে 'লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার' স্থাপন করা হবে, যেখানে হারানো জিনিসপত্র ও ঘোষণার মাধ্যমে মুসল্লিদের সহায়তা করা হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় ও তার আশপাশে সকাল ৬টা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তিনি নগরবাসীকে আগেভাগে আসা, নিরাপত্তা পরীক্ষায় সহযোগিতা করা, ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন না করা এবং ট্রাফিক ডাইভারশন ও পার্কিং নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান। এছাড়াও, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ডিউটিরত পুলিশ অফিসার বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ফাঁকা এলাকার নিরাপত্তা
ঈদের ছুটিতে ঢাকার ফাঁকা এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে কমিশনার বলেন, মোবাইল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল ও মোটরসাইকেল প্যাট্রোল জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিং মল, বাজার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিএমপি সাইবার ইউনিট ঈদকালীন সময়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গুজব, ভুল তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। গুজব বা উসকানির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



