কুমিল্লার দেবিদ্বারে দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে পুলিশ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ওসি মনিরুজ্জামান পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি ডিএসবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) সদস্যদেরও সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি নিজেও একটি সিভিল টিম নিয়ে দিনরাত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জেলা পুলিশের নির্দেশনা
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে গত এক মাসে ১২৫ জন ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসির সরাসরি নেতৃত্ব
দেবিদ্বার থানার ওসি মনিরুজ্জামান নিজে মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করছেন। তিনি নিয়মিত সাদা পোশাকে বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এ তৎপরতার ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। থানার বিভিন্ন ইউনিটকে ভাগ করে আলাদা দায়িত্ব দিয়ে অপরাধ দমন আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, ওসি মনিরুজ্জামানের উদ্যোগে মাদক ও চাঁদাবাজরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় এবারের ঈদে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সক্রিয়তায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমান ওসির ভূমিকা অত্যন্ত সাহসী। গণমাধ্যমকর্মী জালাল আহম্মদ বলেন, ওসি মনিরুজ্জামান একজন পেশাদার কর্মকর্তা। দেবিদ্বারে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মধ্যেও তিনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন।
ওসির বক্তব্য
দেবিদ্বার থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নানা কারণে পুলিশের মধ্যে সক্রিয়তার কিছুটা অভাব রয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং জনগণের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমি নিজেই সক্রিয় হয়েছি। দেখেছি, আমি সক্রিয় হলে পুরো টিম কাজের গতি পায়। তাই আমার সঙ্গে সঙ্গে থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।



