নিহত একরামুল হকের শেষ মুহূর্তের অডিও রেকর্ডে ধরা পড়েছে তাঁর মেয়ে ও স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন। ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। ওই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। একরামুল হক নিজেও আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনার রাতে একরামুল হকের মেয়ে ও স্ত্রী ফোন করলে তাঁর মুঠোফোন রিসিভ হয় এবং অডিও রেকর্ড হয়। রেকর্ডে শোনা যায়, মেয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় আছেন। একরামুল বলেন, ‘মেজর সাহেব’ ডেকেছিলেন এবং তিনি টিএনও (ইউএনও) অফিসে যাচ্ছেন। পরে তিনি হ্নীলায় যাচ্ছেন বলে জানান। মেয়ে যখন জিজ্ঞাসা করে, ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে...’, তখন ফোন নেন স্ত্রী আয়েশা। এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গুলির শব্দ ও আর্তনাদ
রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে আয়েশা আবার ফোন করলে রিসিভ হয় এবং তিনি ‘হ্যালো, হ্যালো’ করতে করতে ট্রিগার টানার শব্দ ও দুটি গুলির আওয়াজ শোনেন। এরপর মরণাপন্ন কারও আর্তনাদ শোনা যায়। আয়েশা চিৎকার করে বলেন, ‘আমার জামাই কিছু করে নাই।’ পরে আরও তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায় এবং গালাগালি।
মামলা ও বিচারের অপেক্ষা
ঘটনার সাত বছর পর, গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম। মামলায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
পরিবারের বর্তমান অবস্থা
একরামের মেয়ে তাহিয়াত হক বলেন, ‘বাবাকে গুলি করে মারার শব্দ এখনো কানে ভাসছে। ভুলতে পারছি না। অন্তত বিচারটা হলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম।’ আয়েশা বেগম বলেন, টেকনাফে গ্রামের বাড়িতে তাঁরা তেমন যান না এবং খুব সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে হয়। দুই মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।
মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় নামের গরমিল
আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর র্যাব যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, সেখানে নিহত ব্যক্তির বাবার নাম ও ঠিকানা ভুল ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ৭৩ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় ১৮ নম্বরে নাম আছে এনামুল হকের, যার বাড়ি নাজিরপাড়া, বাবার নাম মোজাহার মিয়া। একরামুলের বাবার নাম মোজাহার মিয়া নয় এবং তাঁর ঠিকানাও নাজিরপাড়া নয়।
ভয় ও নিরাপত্তা
আয়েশা বেগম বলেন, ‘সরাসরি কেউ হুমকি দেয়নি। তবে নানা কথা শুনি, যার কারণে মেয়েদের নিয়ে শঙ্কায় থাকি।’ তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী নন। তাহলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হলেন কী করে?’



