চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আরএবি ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলার পর যৌথবাহিনীর অভিযানে অন্তত ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ
আরএবি-৭-এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, 'প্রায় ২০-২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর কেউ হামলায় জড়িত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা জড়িত নয়, তারা জামিনে মুক্তি পাবে।'
গোলাগুলির ঘটনা
যৌথবাহিনী ও সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বাহিনীর কিছু সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
হামলার বিবরণ
আরএবি কমান্ডার দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০০-২৫০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে ইয়াসিন ও তার দল এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলিনগরে প্রায় সম্পূর্ণ নির্মিত একটি যৌথবাহিনী ক্যাম্পের প্রায় ৭০ শতাংশ ভাংচুর করেছে ওই গ্রুপ। যোগাযোগের অসুবিধার কারণে অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৫ মাসে আরএবি-৭ সদস্যরা হত্যা মামলায় ৩৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের ধর্ষণ মামলার সব আসামিকে আরএবি বা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। 'সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,' বলেন তিনি।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে ১৯ জানুয়ারি সলিমপুরের দুর্গম জঙ্গল এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আরএবির উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ ও ২০২২ সালে এলাকা পরিষ্কারের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা স্থানীয় প্রতিরোধ ও অন্যান্য বাধার কারণে ব্যর্থ হয়েছিল।



