পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিআরটিএ ভিজিলেন্স ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গরুর হাট পরিদর্শন
সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার পর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী গরুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, পশুরহাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদ জামাত এবং ঈদের ছুটিকালীন ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পশুরহাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত প্রতিটি পশুরহাটকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতি, একটি করে সাব কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি গরুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকছে। জাল নোট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন আছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনে মানি এস্কট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পশুরহাট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।
ঢাকার প্রবেশপথে নজরদারি
ঢাকার প্রবেশপথ যেমন গাবতলী, উত্তরা, যাত্রাবাড়িতে চেকপোস্ট রয়েছে। পশুবাহী গাড়ি চলাচলের নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে কেউ পশুবাহী ট্রাককে নির্দিষ্ট হাট ছাড়া অন্য কোথাও জোরপূর্বক নামাতে না পারে। গরুর হাটের হাসিল কাউন্টারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে হাটগুলোতে বুথ বা মোবাইল ব্যাংকিং থেকে লেনদেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট ব্যবস্থাপনা
ঈদের আগের দিনগুলোতে ঢাকা ছাড়ছেন লাখ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টগুলো যানজটমুক্ত রাখা হচ্ছে।
ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ও যত্রতত্র পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গরুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যাতে যানজট না হয়, সেজন্য হাটের সীমানার বাইরের রাস্তা বা ফুটপাতে কোনো পশু রাখতে দেওয়া হবে না। ছিনতাই, জালনোট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ টার্মিনালে রয়েছে। প্রতিটি টার্মিনালে পুলিশ টহল ও ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা কার্যকর আছে। যাত্রী হয়রানি, টিকেট কালোবাজারি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থান
গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি টার্মিনালেই স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিলেন্স টিমেও ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গেই তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন এবং ডিএমপির নজরে আসা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পশুবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে অধিক চেকপোস্ট ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন আছে। এই ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও পশুরহাটের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিকভাবে ডিএমপি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নিযুক্ত আছেন।



