নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। বিএনপি নেতা ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি করার অভিযোগে এই বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
গত ২০ মে রাতে বাড়ি ফেরার পথে আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নিতে গড়িমসি করার অভিযোগ ওঠে ওসি আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন, সমর্থক ও এলাকাবাসী ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ওসি বদলির কারণ ও নতুন দায়িত্ব
ওসি আলাউদ্দিনকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিএসবি) বদলি করা হয়। শনিবার রাতেই তিনি চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে ডিএসবিতে যোগদান করেন। তবে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি দাবি করেন, আলাউদ্দিনের বদলি আদেশ রুটিন ওয়ার্ক।
আড়াইহাজার থানায় নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সবজেল হোসেনকে। তিনি ডিএসবির পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। রোববার সকালে নতুন ওসি যোগদান করেছেন। তবে কী কারণে এই বদলি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ প্রশাসন।
মামলার প্রস্তুতি ও অভিযোগ
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, ওসমান গণি হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি এবং আসামির নাম বাদ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
নিহত ওসমান গণির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা যাদের সন্দেহভাজন হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন, তাদের নাম বাদ দিতে থানা থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সাবেক ওসি মো. আলাউদ্দিন।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান আলীসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



