পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব পরিবার, জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ
পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব পরিবার, জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারও মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের শিকার হয়ে বাড়িঘর, জমিজমা হারিয়েছেন তারা। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হওয়ায় আতঙ্কে রাত কাটছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।

ভাঙন পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ

কয়েক বছর ধরে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, গৌড়শহরপুর ও রাওথা এলাকায় নিয়মিত নদী ভাঙন চলছে। এর ফলে বহু পরিবার তাদের জন্মভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব। কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অবশিষ্ট বাড়িঘরগুলোও হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

নদী তীরের বাসিন্দা ফজলুর রহমান, আনিছুর রহমান, সোলেমান আলী, ইসলাম আলী ও সুমন আলী জানান, বছরের পর বছর ধরে পদ্মার ভাঙনে তারা সব হারিয়েছেন। কয়েক হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। অসময়ের এই ভাঙনে অবশিষ্ট মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারানোর ভয়ে দিন কাটছে তাদের।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদ সদস্যের উদ্যোগে জিওব্যাগ ফেলা

ভাঙনের খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার প্রচেষ্টায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর এলাকায় ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন। তার নির্দেশেই পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলছে। প্রয়োজনে আরও ব্যাগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু রওশন মাসুদ বলেন, এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে নদীর তীরের বাড়িঘর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। সংসদ সদস্যের নির্দেশে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের কাজ চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়িত হবে।