ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত নারীদের মধ্যে দুজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং একজন বিষপানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটে।
মৃত নারীদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত নারীরা হলেন—হরিপুর উপজেলার গেদুড়া কিসমত গ্রামের নাজেরা আক্তার (২৩), পীরগঞ্জ উপজেলার চাপোড় গ্রামের মেহেরুন নেছা (৬৩) এবং একই উপজেলার সিঙ্গারোল এলাকার মোনালিসা (১৮)। প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
মানসিক অবসাদে নাজেরার আত্মহত্যা
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে হরিপুরের নাজেরা আক্তারের বিয়ে হয়। প্রথম সন্তান জন্মের কিছুদিন পর মারা যাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সোমবার বিকালে পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে টিকা দিতে বাইরে নিয়ে গেলে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেন নাজেরা।
দীর্ঘদিনের ক্যানসারে ভুগে মেহেরুনের আত্মহত্যা
অন্যদিকে পীরগঞ্জের মেহেরুন নেছা বিগত ১০ বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে তার স্বামী কর্মস্থলে থাকায় তিনি নিজ কক্ষে একাই ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে স্বজনরা ঘরের ভেতর তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
পারিবারিক কলহে বিষপান করে মোনালিসার মৃত্যু
এছাড়া পারিবারিক কলহের জেরে গত শুক্রবার বিষপান করেন পীরগঞ্জের সিঙ্গারোল এলাকার তরুণী মোনালিসা। তাকে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মোনালিসার মৃত্যুর ঘটনায় রাণীশংকৈল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, তিনটি মৃত্যুর ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।



