৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত
চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৪৪ মিলিমিটার এবং সীতাকুণ্ডে ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তারপর আজই চট্টগ্রামে জুলাই মাসে এত বৃষ্টি হলো।’
জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন
নগরের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি ঢুকেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে। মালামাল নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পানিতে ডুবে গেছে নগরী ও জেলার বেশ কিছু এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের জলাবদ্ধ এলাকার জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সকালে অফিসগামী যাত্রী এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা যায়।
পতেঙ্গায় ৩৩ বছরের রেকর্ড
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বিকাল ৩টা পর্যন্ত) ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সাগরে ৩ নম্বর সংকেত এবং জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের সতর্কতা রয়েছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও আশ্রয়কেন্দ্র
নগরের টাইগারপাসহ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও এতে হতাহত হয়নি কেউ। জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের জন্য নগরের বিভিন্ন স্থানে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। সকালে কিছু এলাকা পরিদর্শনকালে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নালা পরিষ্কারের আগাম পদক্ষেপ এবং মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির কারণে সামগ্রিক জলাবদ্ধতা কমেছে।’
সারাদেশে বৃষ্টিপাত
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়, ১৪৩ মিলিমিটার ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, ১০৬ মিলিমিটার। এ ছাড়া ফেনীতে ৯১ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৭৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ৯৪ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর ঢাকায় আজ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
বিরূপ আবহাওয়ার কারণে নগরীর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে গণপরিবহনের চলাচল কম ছিল। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।



