কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় জামায়াত নেতাকে আসামি করায় ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি
পীর হত্যায় জামায়াত নেতাকে আসামি করায় ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় জামায়াত নেতাকে আসামি করায় ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আবদুর রহমান শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জামায়াত নেতাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জামায়াত নেতারা ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ দাবি করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নামীয় অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও মাদ্রাসাশিক্ষক সাফি। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে বুধবার বিকাল ৫টায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন; অথচ মামলায় আসামি করা হয়েছে জামায়াত নেতাকে। এ ঘটনাকে ঘিরে জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনগণও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতের অভিযোগ ও আহ্বান

তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ফিলিপনগরে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি হিসেবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাকেও এ ঘটনায় সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই- এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করুন। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুন। একইসঙ্গে, কার নির্দেশে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দিয়েছে তা উদঘাটন করুন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বানও জানান জামায়াত নেতারা।

প্রধান আসামির বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত

হত্যার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, যিনি মারা গেছেন, তিনি আমার বংশের বড় ভাই। তার ভাইয়ের নির্দেশেই আমি লাশ আনতে গিয়েছিলাম। ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গেও আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। এরপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই দিন সেখানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারো নাম মামলায় নেই।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজ আস্তানায় কথিত পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেন। ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেন ৭-৮ জন।

পুলিশ সূত্র জানায়, যেসব আইডি ও পেজ থেকে ভিডিও ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।