জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদ শূন্য হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যের পদ শূন্য হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৫ সংসদে পাস না হওয়ায় এই অধ্যাদেশের অধীনে নিয়োগ পাওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে।’
সংসদে বিল পাস ও আইন পরিবর্তন
গত ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল। এখন এতে রাষ্ট্রপতি সই করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। ফলে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিই আবার ফিরছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরনো আইন পুনর্বহাল হচ্ছে, যা মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার একেবারে শেষ দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা গুম কমিশনের সদস্য মো. নূর খান, নাবিলা ইদ্রিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। এই নিয়োগগুলো তখনই বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, কারণ তা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে সম্পন্ন হয়েছিল।
পদ শূন্য হওয়ার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশ পাস না হওয়ার কারণে এই পদগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি হয়েছে। এখন নতুন করে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা সরকারের নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর অধীনেই সম্পন্ন হবে। এই পরিবর্তন মানবাধিকার সুরক্ষা ও তদারকির ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশে মানবাধিকার ইস্যুগুলো ক্রমাগত আলোচনায় রয়েছে।



