দাম্পত্য কলহের জেরে শিশু হত্যা: বাবা ও সৎমা গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি মর্মান্তিক ঘটনায় দাম্পত্য কলহের জেরে নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবা ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর রায়ের গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক বছর ধরে শিশুটির মা লামিয়া আক্তার হরিরামপুর রায়ের গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং সন্তানের সঙ্গে বাবাকে দেখাও করতে দিতেন না। গতকাল বুধবার বিকেলে শিশুটির বাবা সোহাগ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে সন্তানকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশেই শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানায় নিয়ে আসে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার বাদী হয়ে স্বামী সোহাগ মিয়া ও তাঁর প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গফরগাঁও উপজেলার বাখুরা গ্রাম থেকে দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে জাকিয়া আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, স্বামীর সঙ্গে কলহে শিশুটির মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন এবং সন্তানের সঙ্গে দেখাও করতে দিতেন না। এ জন্য দ্বিতীয় স্ত্রীকে কষ্ট দিতে রাগে-ক্ষোভে সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন স্বামী সোহাগ মিয়া। হত্যার প্ররোচনা, সহযোগিতা ও আশ্রয়ের দায়ে সোহাগ মিয়ার প্রথম স্ত্রী জাকিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে এমন নির্মম ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। শিশুটির মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।



