কুমিল্লায় যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের মনশাসন গ্রামে দুই যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার থেকে এই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, যা নিয়ে সমাজে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন যে, ওই দুই যুবকই পেশাদার 'চোর' হিসেবে পরিচিত এবং তারা মসজিদের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করছিল।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের বক্তব্য
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সকালে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. নাঈম নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক ও তাঁর এক সহযোগী মনশাসন জামে মসজিদ থেকে মাইকের ব্যাটারি চুরি করতে গেলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে। এরপর তাদের রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বলেন, 'নাঈম এলাকায় পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত। মানুষ তাঁর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। ইলেকট্রিক শক দেওয়া হলেও সেটা গুরুতর ছিল না, কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবককে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি তাদের মারধর ও ইলেকট্রিক শক দিচ্ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন ঘটনা দেখলেও কেউ হস্তক্ষেপ করেননি। যুবকরা চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানালেও তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘটনার পর থেকে নাঈম আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর সহযোগীর বিস্তারিত পরিচয় এখনো অজানা।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অবস্থা
কুমিল্লা কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আনোয়ার প্রথম আলোকে জানান, 'খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা বলতে থাকে, পুলিশ কেন চোরের পক্ষে আসবে। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, অপরাধ করলে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। তবে গ্রামবাসী জানায়, তারা যুবকদের মারধর করে ছেড়ে দিয়েছে এবং তারা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে।'
ওসি আরও যোগ করেন, 'প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, যুবকরা এলাকায় নিয়মিত চুরি করতেন এবং সর্বশেষ মসজিদের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করেছিলেন। ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্রগুলো গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।' ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনো নির্যাতিত যুবকরা থানায় কোনো অভিযোগ করেননি, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
মনশাসন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে এবং নাঈমকে এজন্য সন্দেহ করা হতো। তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে গ্রামে আসতেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যেখানে অনেক ব্যবহারকারী নির্যাতনের নিন্দা জানালেও অনেকে স্থানীয়দের ক্রোধকে সমর্থন করছেন।
এই ঘটনা আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'অপরাধ সন্দেহে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়া আইনত গ্রহণযোগ্য নয়, বরং পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।' ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, এবং আশা করা হচ্ছে, দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।



