টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা হত্যা, পুলিশের অভিযানে বাঁশ উদ্ধার
টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা হত্যা, পুলিশ অভিযান

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক মাদকাসক্ত ছেলে তার নিজের মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় পুলিশ ও গ্রামবাসীর সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের প্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩৫) তার ছেলে মুরাদ হাসান (১৬) ও শিশু কন্যা ইয়ামিনকে (৫) নিয়ে প্রতিদিনের মতো গত রোববার রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের অন্ধকারে মুরাদ হাসান একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। ভোরবেলা ছোট বোন ইয়ামিনকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

মরদেহ আবিষ্কার ও পুলিশের তদন্ত

সোমবার সকালে বাড়ির লোকজন মুক্তা আক্তারকে না পেয়ে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তার মরদেহ দেখতে পান। তারা অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন, যারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সখীপুর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাঁশটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাদকাসক্তির প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের মতে, মুরাদ হাসান এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং সে অনিয়মিত ছাত্র ছিল। তিনি বলেন, "মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা, যা এই অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ প্রভাবকে উন্মোচিত করে।" এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তৎপরতা

ওসি মো. হেলাল উদ্দিন আরও জানান, নিহত মুক্তা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মুরাদ হাসানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এখন আসামি মুরাদ হাসানকে গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে এবং আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা অর্জন করেছে।