র‍্যাব বিলুপ্তির আহ্বান: প্রধানমন্ত্রীকে ৯ মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি
র‍্যাব বিলুপ্তির আহ্বান: প্রধানমন্ত্রীকে ৯ সংগঠনের চিঠি

র‍্যাব বিলুপ্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছে নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এই চিঠি প্রেরণ করা হয়, যাতে মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সুযোগ হিসেবে এই সময়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিঠি প্রেরণকারী সংগঠন ও প্রাপকগণ

হিউমান রাইটস ওয়াচ, অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইনটিন, সিপিজি, সিভিকাসসহ মোট নয়টি সংগঠন যৌথভাবে এই চিঠি লিখেছে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একই চিঠি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপি সরকারের সামনে নানা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তটি মানবাধিকার উন্নয়নের জন্য একটি সোনালি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তার পতনের পর এসব ঘটনার পরিমাণ অনেকটাই কমে এলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছামতো আটক এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে র‍্যাব বিলুপ্তির আহ্বানকে একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অন্যান্য সুপারিশ

চিঠিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য চিঠিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশও প্রদান করা হয়েছে, যা সরকারের জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের এখন এই আহ্বানের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তা নিয়ে দেশ-বিদেশে নজর রাখা হচ্ছে।