মাদারীপুরে গৃহবধু হত্যার প্রতিশোধে শ্বশুরবাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরের সদর উপজেলায় এক গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মহিষেরচর এলাকায় গৃহবধু সাথী আক্তারের শ্বশুরবাড়িতে বিক্ষুব্ধরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে।
ঘটনার পটভূমি
ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, সদর উপজেলার উত্তর মহিষেরচর গ্রামের গোলাম বেপারীর ছেলে কাইয়ুম বেপারীর সঙ্গে সাত মাস আগে একই এলাকার ওহিদুল খাঁর মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র তিনদিন পর কাইয়ুম জীবিকার তাগিদে প্রবাসে চলে যান। এরপর গৃহবধুর ওপর নজর পড়ে শ্বশুরের। স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুর তাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছেন এবং কুপ্রস্তাব দিয়েছেন।
রোববার সকালে শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাথী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় শ্বশুরবাড়িতে। বেলা ১১টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিশোধমূলক হামলা
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় রাতে সাথী আক্তারের শ্বশুরবাড়িতে বিক্ষুব্ধরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে তারা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নৌপথ থাকায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে ফায়ার সার্ভিসের সময় দ্বিগুণ লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই দোতলা ভবনসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দাবি করেছে, এতে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ আহাদুজ্জামান জানান, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এর আগেই বসতঘর পুড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়েছে দুর্বৃত্তরা।'
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার শ্বশুরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বিক্ষুব্ধদের দ্বারা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।'
এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে। গৃহবধু হত্যা ও পরবর্তী অগ্নিসংযোগের তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।



