দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে বাধা কাটল, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
পরিবেশ অধিদপ্তরের দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) চার বছর আগে করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন।
রিট আবেদনের পটভূমি
পরিবেশদূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকাশ করবে না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমে আসা খবরের সূত্র ধরে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২২ সালে ওই রিট আবেদন করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়—পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনজীবীর বক্তব্য
শুনানি শেষে আদালত সিদ্ধান্তটিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, 'একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর যেকোনো দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'রায়ের ফলে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশে বাধা কাটল। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও দূষণের বিষয়ে সর্তক হবে।'
এই রায় পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আগের সিদ্ধান্তটি পরিবেশদূষণ রোধে বাধা সৃষ্টি করছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।



