কক্সবাজারে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন-হত্যার অভিযোগ, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ মার্চ) দিবাগত ভোররাতে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যা মধুঘোনা খলার পাহাড় এলাকায় নিজ বসতঘরে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। নিহত লালা বিবি (৩০) স্থানীয় বাসিন্দা এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী আবদু শুক্কুরের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর আহম্মদ পরিবার সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, পূর্ব মরিচ্যার দুর্গম পাহাড়ি টিলায় লালা বিবির বসতঘর অবস্থিত। প্রায় তিন বছর আগে স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি দুই সন্তান নিয়ে অর্ধভাঙা বাড়িতে একাকী বসবাস করছিলেন। সোমবার ভোরে তার বড় ছেলের ঘুম ভাঙলে মাকে অন্য কক্ষে খুঁজে পায়। খাটের পাশে মাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে বাইরে গিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
ওসি নুর আহম্মদ আরও উল্লেখ করেন, ঘরের কিছু জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়, যা থেকে পরিবারটির সন্দেহ হচ্ছে যে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। লালা বিবির গলায় ও মাথায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শ্বাসরোধ ও নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের প্রাথমিক ধারণা। শরীরের পাশে পাওয়া একটি কাপড়ে শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে, যা থেকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি
পরিবারের সদস্যদের মতে, চলমান জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি নুর আহম্মদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য এম. মনজুর আলম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সহায়তা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



