ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুইজনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুইজনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: দুইজনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির মামলায় এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান (রনি) নামের দুজনকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক এস এম মাসুদ পারভেজ এ রায় দেন।

আলী আজম (৫৫) আশগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর দক্ষিণ এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এবং আশিকুর রহমানের (৪৫) বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার কাপ্তান বাজারে; ভাড়া থাকেন সোনারামপুর এলাকায়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, দুই আসামির উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান আলী আজম ও আশিকুর রহমান। তাঁরা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও করোনা মহামারির কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সরকারি অনুদানের টাকা খরচের বিল-ভাউচার দেখতে চান। এ সময় ওই দুজন অভিযোগ করেন, টাকা খরচ না করে প্রধান শিক্ষক তা আত্মসাৎ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম ও আশিকুর রহমানকে জানান, বিল দেখানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন এবং দেখতে হলে তিনিই দেখবেন। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হন এবং এক পর্যায়ে তাঁরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এরপর তাঁরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করার ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের সরকারি অনুদানের টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। স্থানীয় লোকজন এস এম আলী আজমকে আটক করেন। আশিকুর রহমান মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে ছদ্মবেশে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারায় (দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারা) আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। এতে বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ সম্পর্কে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকেরা সব সময় দেশ, সমাজ ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নামসর্বস্ব পত্রিকার কার্ড ব্যবহার ও অনুমোদনহীন ফেসবুক পেজ খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। তাঁরা মূলধারার কোনো সাংবাদিক নন। এ রায় অপসাংবাদিকতা ও ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী বার্তা।