বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত: আসকের তীব্র নিন্দা
বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত: আসকের নিন্দা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রবিবার (১০ মে) বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।

আসকের বিবৃতি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনও ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে কিংবা চোরাচালান বা অন্য কোনও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে। বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পৃথিবীর বহু দেশের সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায় না। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী জীবন রক্ষার বাধ্যবাধকতা সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী কর্তৃক গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সীমান্তে গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসকের আহ্বান

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশ সরকারকে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় সীমান্ত হত্যা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকারসম্মত আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ভারতের মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতিও আসক আহ্বান জানিয়েছে— তারা যেন সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার মতো অমানবিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ বন্ধে নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও জনমত তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধের জরুরি প্রয়োজন

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের স্বার্থে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি। সীমান্ত কখনোই মানুষের জীবনহানির ক্ষেত্র হতে পারে না; বরং তা হওয়া উচিত আইনের শাসন, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।