কম্বোডিয়ায় মানবপাচার থেকে উদ্ধার ২৪ বাংলাদেশি
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার থেকে উদ্ধার ২৪ বাংলাদেশি নাগরিক

কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের শিকার ২৪ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে সেখানে গিয়েছিলেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযান

কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে গত কয়েকদিন ধরে পরিচালিত অভিযানে এই ২৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। তারা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের জোরপূর্বক বিভিন্ন প্রতারক চক্রের হাতে বন্দি রাখা হয়েছিল।

প্রতারণার কৌশল

প্রতারক চক্রটি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি যুবক-যুবতীদের আকর্ষণ করত। তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যেত। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন সাইবার স্ক্যামে কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধারকারীদের বিবরণ

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাদের অনেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। উদ্ধারের পর তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া

উদ্ধারকৃতদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের কম্বোডিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের দেশে পাঠানো হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা

বাংলাদেশ সরকার বিদেশে চাকরির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। বিদেশে কাজের আগে বৈধ নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে যাওয়ার এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো অনলাইন অফার বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে কাজের প্রস্তাব গ্রহণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, মানবপাচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সচেতনতা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকার ও দূতাবাসগুলোর তৎপরতার কারণে অনেক বাংলাদেশি বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরতে পারছেন।