ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং নরসিংদীর পলাশে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা, উদ্বেগ ও বিচার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
শনিবার (৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই অবস্থান জানায়। বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দেওয়া বিবৃতিতে এইচআরএসএস বলেছে, শুক্রবার (৮ মে) কসবা সীমান্তে গুলির ঘটনায় দুই বাংলাদেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংগঠনটি জানায়, সীমান্ত অতিক্রম সংক্রান্ত একটি ঘটনার জেরে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে এই প্রাণহানি ঘটে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সংগঠনটি মনে করে, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এইচআরএসএস’র তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের একাধিক হামলার ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গত বছর সীমান্তে ৮০টির বেশি ঘটনায় ৩০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এদিকে, নরসিংদীর পলাশে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে এইচআরএসএস বলেছে, অটোরিকশা গ্যারেজে ‘দুষ্টামির ছলে’ ভয়াবহ আচরণের কারণে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সংগঠনটি বলছে, এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং মানবতা ও সভ্যতার ওপর গভীর আঘাত। দেশে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়—এ ঘটনাই তার প্রমাণ।
এইচআরএসএস’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৫১৯ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটি উভয় ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
এইচআরএসএস বলেছে, সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নীতি পুনর্বিবেচনা এবং শিশু সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। সংগঠনটি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



