বগুড়ায় দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভণ্ড কবিরাজ গ্রেফতার
বগুড়ায় দাখিল পরীক্ষার্থী ধর্ষণ: ভণ্ড কবিরাজ গ্রেফতার

বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’-এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত কবিরাজের পরিচয়

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মোফছের আলীর ছেলে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করে। শহরের নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে তার চেম্বার রয়েছে। সেখানে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছে।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বেশ কিছুদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছিল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উন্নতি হয়নি। তার পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পায়। গত ৩ মে সকালে ছাত্রীকে তার বাবা ওই কবিরাজের দাওয়াখানায় নিয়ে আসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কবিরাজ ছাত্রীকে দেখার পর মন্তব্য করে, তাকে জিনে ধরেছে। ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। এক পর্যায়ে ছাত্রীকে দাওয়াখানার ভেতরে কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর সবাইকে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। পরে চিকিৎসার নামে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একইদিন বিকালে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে আবারও আসতে বলে।

পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে পুনরায় সেখানে গেলে কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিম ছাত্রীকে আবারও কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। ৪ মে ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়া সদর থানায় কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশি ব্যবস্থা

এদিকে পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়। এরপর ৫ মে সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে ভণ্ড কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বুধবার দুপুরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কবিরাজের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কবিরাজ তার দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক আধুনিক কক্ষ বানিয়েছে। সেখানে চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে থাকে। কবিরাজ রেজাউল করিমকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।