বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা হত্যা মামলা’ প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। রবিবার (৩ মে) বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান।
গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে এই বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা আগের বছর ছিল ১৪৯তম। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বৃদ্ধি পায়। এর বাইরে থাকেননি সাংবাদিকরাও। তাদের দাবি, এই সময়ে সারাদেশে পাঁচ শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘গায়েবি’ হত্যা মামলা করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১২০০ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ১৬৮ জন পেশাদার সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের সাত শতাধিক প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, বহু সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহার, সাংবাদিক হত্যার বিচার, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল, তালাবদ্ধ ডিইউজে ও বিএফইউজে কার্যালয় খুলে দেওয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পুনর্বহাল, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।



