বাংলাদেশে মিডিয়া স্বাধীনতা ক্রমাগত সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, মুক্ত, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল মিডিয়া ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা বলে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার
বিবৃতিতে আসক উল্লেখ করেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল একটি পৃথক অধিকার নয়; এটি অন্যান্য অধিকার সুরক্ষার মৌলিক ভিত্তি। একটি মুক্ত মিডিয়া নাগরিকদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করে, ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন করে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করে।
সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃতি
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে, যা রাষ্ট্রের উপর সাংবাদিক ও নাগরিকদের ভয় বা হয়রানি ছাড়া মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। একইভাবে, সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৯ অনুচ্ছেদ তথ্য অনুসন্ধান, গ্রহণ ও প্রচারের অধিকারকে মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মিডিয়া স্বাধীনতার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে মিডিয়া স্বাধীনতা বহুমাত্রিক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারের ঝুঁকি, ডিজিটাল অভিব্যক্তির উপর হয়রানি, তদন্তমূলক সাংবাদিকতার উপর চাপ, মালিকানার প্রভাব, আত্মসেন্সরশিপ এবং ফিল্ড রিপোর্টিংয়ে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার স্থান সংকুচিত করছে। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা, হুমকি ও নজরদারির অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা
আসক আরও উল্লেখ করেছে, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা, সরকারি তথ্য প্রদানে অনীহা এবং জনস্বার্থের তথ্য গোপন করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতাকে দুর্বল করছে। যখন মিডিয়া তথ্য প্রাপ্তিতে বাধার সম্মুখীন হয়, তখন জনগণ সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
মিথ্যা তথ্য ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় সুপারিশ
ভুল তথ্য, অপতথ্য, সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ না করে ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা জোরদার করা, সাংবাদিকতায় পেশাদার মান উন্নয়ন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক নীতি কাঠামো প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছে। সংগঠনটি সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে বা অপব্যবহারের ঝুঁকিপূর্ণ আইন ও নীতি পর্যালোচনা ও সংস্কার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা, সহিংসতা ও হয়রানির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতের আশা প্রকাশ করে।
তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন
এছাড়া, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সরকারি তথ্যে সহজ প্রবেশাধিকার, এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের যৌথ উদ্যোগে একটি স্বাধীন, বহুত্ববাদী ও নৈতিক মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে আসক। সংগঠনটি নারী সাংবাদিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মিডিয়া কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছে।



