পল্লবী স্কুলছাত্রী হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে সোমবার কারাগারের ভ্যানে করে নেওয়ার সময় সোহেল রানা ‘ডলার’ নামটি উচ্চারণ করেন বলে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করে।
ডলারের বক্তব্য
ওই ঘটনার পর ডলার নামে পরিচিত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায় ক্ষতির কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং কঠিন সময় পার করছেন।
তিনি বলেন, আগে ঢাকার গুলিস্তানের পীর ইয়েমেনি মার্কেটে পাঞ্জাবির দোকান ছিল। লোকসানের কারণে তা বন্ধ করতে হয়েছে। পরে পরিবারের সহায়তায় অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
সোহেল রানার সঙ্গে পরিচয়
ডলার আরও জানান, একটি অটোরিকশা মেরামতের গ্যারেজে সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে সোহেল কাজ করতেন। কাজের প্রয়োজনে তাদের যোগাযোগ ছিল, তবে কাজ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিরোধও হয়। তিনি বলেন, একদিন সোহেল কাজ না করায় তাকে বকা দিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় সোহেলের মনে ক্ষোভ বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যার জেরে তার নাম মামলায় টানা হয়েছে। তবে কেন তাকে জড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না।
তদন্তকারীদের বক্তব্য
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না ছাড়া এ মামলায় তৃতীয় কেউ জড়িত থাকার তথ্য এখনো মেলেনি। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বশির জানান, তদন্তে তৃতীয় কোনো পক্ষের নাম উঠে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, সোহেল রানার জবানবন্দি বা অন্যান্য বিবৃতিতে কোনো সহযোগীর উল্লেখ নেই। সম্প্রতি ‘ডলার’ নামটি উল্লেখ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অযাচিত দাবি অনুসরণ করলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া উভয়ই বিলম্বিত হতে পারে।



