হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (১ জুন) সকালে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি: বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ
পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। নিহত কিশোরী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বানিয়াচং উপজেলার নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। চলতি বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
ঘটনার বিবরণ
নিহতের দাদা জানান, বানিয়াচং উপজেলার আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দিলিপ তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যান। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, রোববার (৩১ মে) সকালে পরিবারের অগোচরে দিলিপ দাস আবারও কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের পাশে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হাসপাতালে মৃত্যু
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত ছিল বলেও দাবি করেন স্বজনরা।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, ঘটনাটি স্পর্শকাতর। এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



