নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ইয়াসমিন ওরফে সুমন (২৭) নামের এক হিজড়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন আরেক হিজড়া চাঁদনী ওরফে বাবু (২৬)।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার (২৪ মে) রাত ১২টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরিজকান্দি গ্রামের রেলগেটসংলগ্ন একটি মুরগির খামারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসমিন ওরফে সুমন ওই গ্রামের রবিউল্লাহর সন্তান। আহত চাঁদনী ওরফে বাবু মিন্টু মিয়ার সন্তান। পরিবার থেকে বের হয়ে দুই জন একসঙ্গে থাকতেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের বাসা পাঁচ মিনিটের হাঁটার পথ।
অভিযুক্ত ব্যক্তি
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাসেল মোস্তফা (৩৫)। তিনি তিন বছর ধরে ওই মুরগির খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে খামারের মালিক জাকির মিয়ার কাছে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনও কপি এবং ঠিকানাও জানা নেই।
ঘটনার পরিস্থিতি
আহত চাঁদনীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে ইয়াসমিন ও চাঁদনী মুরগির খামারের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় খামারের শ্রমিক রাসেল মোস্তফার সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় রাসেল তাদেরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়।
হত্যার কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী তিন জনের বিরুদ্ধেই এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
চাঁদনীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করেন। ওসি বলেন, আহত চাঁদনীকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ছুরিকাঘাতে নিহত হিজড়া ইয়াসমিনের লাশ রাতে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেন এ হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শ্রমিককে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।



