কক্সবাজারের চকরিয়ায় শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ২২ মে বিকেলে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চকরিয়া বন্ধুসভা। এতে বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
চকরিয়া বন্ধুসভার সভাপতি আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আরমান রাফির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস এম হানিফ। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া সুর তরঙ্গ একাডেমির পরিচালক অমল কান্তি সেন, ঘুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক তূর্ণা নিশিতা বড়ুয়া, চকরিয়া ওয়েস্টার্ন প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আজিজুল হক ও ব্যবসায়ী নেপাল দে প্রমুখ।
বক্তাদের উদ্বেগ ও দাবি
চকরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ বড়ুয়া বলেন, ‘আমিও একজন মেয়ের বাবা। আমার মেয়ে নিয়ে আমি এখন শঙ্কিত। ঘরে-বাইরে কোথাও শিশু ও নারীরা নিরাপদবোধ করছে না। সারা দেশে প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এটি মনকে বোঝাতে পারি না। রাতে ঘুমাতে পারছি না। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের বাচ্চাদের নিরাপত্তা চাই।’
চকরিয়া সুর তরঙ্গ একাডেমির পরিচালক অমল কান্তি সেন বলেন, ‘আজকে এই মানববন্ধনে আমার মেয়েরা উপস্থিত হয়েছে। তারা ছোট্ট বয়সে প্রতিবাদ করতে নেমেছে ধর্ষণের। যারা জানেই–না ধর্ষণ কী। অথচ তারা আজ রাজপথে।’
ঘুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক তূর্ণা নিশিতা বড়ুয়া বলেন, ‘আজ শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাড়িঘর পর্যন্ত কোথাও নিরাপদ নয়। ধর্ষকেরা কত বিকৃত মানসিকতার, ধর্ষণের পর হত্যাও করে। সেটা ভাবলেই শিউরে উঠি। আমরা শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আয়োজকদের বক্তব্য
স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস এম হানিফ বলেন, ‘শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন একটি জঘন্য অপরাধ। এর বিরুদ্ধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
চকরিয়া বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আরমান রাফি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রতিটি শিশু ও নারী নিরাপদে বেড়ে উঠুক। এই মানববন্ধন তারই একটি অংশ। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইন্দ্রজিৎ বড়ুয়া আরও বলেন, ‘শিশু নির্যাতনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। তাদের ফাঁসি পর্যন্ত দাবি জানাচ্ছি। রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। তারা বলেন, ‘শিশু নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করো’, ‘দ্রুত বিচার চাই’ প্রভৃতি।



