যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিকে গুরুত্বহীন হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে ‘ডিপ স্টেট’ অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি নিক্সনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে দেখিয়েছেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, ‘ওয়াটারগেট যদি আজ ঘটত, তাহলে এটি হয়তো ১২ ঘণ্টার একটি সংবাদে সীমাবদ্ধ থাকত। একটি প্রেসিডেন্টের পতনের কারণ হতে পারত—এমন ধারণা অবিশ্বাস্য।’ তবে তার এ মন্তব্যের পর সমালোচনা শুরু হয়। ভ্যান্সের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ইতিহাস
১৯৭২ সালে ওয়াশিংটনের ওয়াটারগেট ভবনে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কার্যালয়ে আড়িপাতার ব্যর্থ চেষ্টা থেকে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে, প্রেসিডেন্ট নিক্সন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তা গোপন করতে হোয়াইট হাউস থেকে গোপনে অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেলেঙ্কারি প্রকাশের দুই বছর পর, ১৯৭৪ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে এবং সরকারি নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা জোরদারে একাধিক সংস্কার আনা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব ব্যবস্থার কিছু অংশ দুর্বল করেছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ রয়েছে।
ইতিহাসবিদের প্রতিক্রিয়া
ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতিহাসবিদ ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিমোথি নাফতালি বলেন, নিক্সনের ওভাল অফিসে রেকর্ড করা অডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তিনি সাক্ষীদের মিথ্যা বলতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। নাফতালি বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিষয় নয়। নিক্সনের ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ অত্যন্ত শক্তিশালী।’
নিক্সন-ট্রাম্প তুলনা
বক্তৃতায় ভ্যান্স নিক্সনের সঙ্গে ট্রাম্পেরও তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে নিক্সন যেমন শক্ত অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পর অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে দেননি। ভ্যান্স আরও বলেন, ‘ডিপ স্টেট যেভাবে রিচার্ড নিক্সনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল, একই গোষ্ঠী ও একই প্রতিষ্ঠান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রথম প্রশাসনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল। এখানে স্পষ্ট মিল রয়েছে।’
তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তদন্ত এবং নিক্সনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ারও তুলনা করেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসিত হলেও সিনেটে দোষী সাব্যস্ত হননি। অন্যদিকে, নিক্সন অভিশংসন প্রক্রিয়া চলাকালেই পদত্যাগ করেন। পরে তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড তাকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান করেন।
নিজের সঙ্গেও মিল
৪১ বছর বয়সি ভ্যান্স নিজের সঙ্গেও নিক্সনের কিছু মিল টানেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ সিনেটর, পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট, বেস্টসেলার বইয়ের লেখক, আর গণমাধ্যমের অপছন্দের ব্যক্তি—শুনতে অনেকটাই জেডি ভ্যান্সের মতো। আমি সবসময়ই রিচার্ড নিক্সনকে পছন্দ করেছি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রক্ষণশীল মহল দাবি করে আসছে, সরকারি আমলাতন্ত্র এবং মূলধারার গণমাধ্যম নিক্সনকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। ভ্যান্সের বক্তব্য সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।



