খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শুক্রবার সকালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) একটি অংশের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপিডিএফের স্থানীয় নেতা ঝিমিত চাকমা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বন্দুকযুদ্ধের বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনিং পাড়া এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ঝিমিত চাকমাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ও মামলা
গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিকিৎসা শেষে ঝিমিতকে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়, পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যন্ত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষের কারণ
পুলিশ বলছে, ইউপিডিএফ (প্রসীত faction) এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জেএসএস অংশের মধ্যে আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। গুইমারার বিভিন্ন এলাকায় ঝিমিত চাকমার নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইউপিডিএফের বক্তব্য
এদিকে, গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ ঝিমিত চাকমাকে তাদের গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করে তার মুক্তি দাবি করেছে। সংগঠনের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্যা মারমা অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্রুপের সদস্যরা দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।
অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধার
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে রামগড়, পাঞ্চছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় পৃথক অভিযানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে চার ইউপিডিএফ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে পৃথক গুলির ঘটনায় সংগঠনটির দুই সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইউপিডিএফের পটভূমি
ইউপিডিএফ ১৯৯৮ সালে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে গঠিত হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
অভিযোগ ও অস্বীকার
বছরের পর বছর ধরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সাথে সহিংস সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইউপিডিএফ বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিয়োজিত। ইউএনবি জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।



