প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দিল্লি বিমানবন্দরে পাসপোর্ট নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রসঙ্গে যা বললেন
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, 'আমি আমার কূটনৈতিক পাসপোর্টটি নেইনি। অন্য কোনো কারণে না; নিচ্ছি, নেব করতে করতে আর নেওয়া হয়নি।' তিনি উল্লেখ করেন, তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার দেওয়া আছে, যা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই কাজ করে। তাই এটি কোনো কারণ নয়। তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেই তাহলে কি আমার বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে বাধ্যও না।'
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা হিসাবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন আইওআরএ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি ১২ জুন দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছিল। তিনি আগে থেকে নেওয়া একটি সার্ক স্টিকার (সার্ক ভিসা হিসাবে পরিচিত) নিয়ে দিল্লি যান। কিন্তু তারপরও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখে। এ সময় তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটিকে আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসাবে বিবেচনা করে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান ডা. জাহেদ উর রহমান। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। ভারতীয় সংবাদ পোর্টাল সিএনএন-নিউজ ১৮ জানায়, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) নাম থাকার কারণে দিল্লির বিমানবন্দরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদ উর রহমানকে কিছুক্ষণ আটকে রাখে। রুটিন তল্লাশির সময় তার নামটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নজরে আসে এবং পরে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে থামানো হয়।
রোববার রাতেই এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তিনি কলম্বো পৌঁছান। সেখান থেকে সকাল ৮টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি অবতরণ করেন।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, 'সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি। সেই বার্তাও দিয়েছি। আমরা পুরো প্রতিনিধি দলকে প্রত্যাহার করতে পারতাম, সেটি করা হয়নি।' তিনি আরও বলেন, 'আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়েছে বলবো না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি।'



