বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে যত না গতি দেখা যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি টান পড়ছে সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সম্প্রতি কিছু ঘটনা দেখে, বা ঘটনার প্রতি কিছু মহলের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে— সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে ঘিরে বিতর্ক
সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি এবং স্ট্রাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর-রহমানকে ঘিরে। ডা. রহমান ১৪ই জুন দিল্লি গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশান (আইওআরএ)-এর একটি সম্মেলনে যোগ দিতে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে দু ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
ডা. রহমান এই আচরণে অপমানিত বোধ করেন এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও, তিনি ভারতে প্রবেশ না করে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, সম্মেলনে যোগ না দিয়ে ফিরে আসার মাধ্যমে তিনি একটি ‘বার্তা’ দিতে এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ রেজিস্টার করতে চেয়েছেন।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
এই একটি ঘটনা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক যে কতটা নাজুক, তা তুলে ধরেছে। বলা যায়, এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে— দুই দেশের আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্ক উন্নয়নের চেয়ে ‘পলিটিকাল পয়েন্ট স্কোরিংকেই’ প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ডা. রহমান সম্মেলনে যোগ না দিয়ে চলে আসার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশে অনেকে সঠিক পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছে; অনেকে এটাকে এক ধরনের ‘বীরোচিত’ মনোভাব এবং ‘ভারতের চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলার সাহস’ হিসেবে বাহবা দিয়েছেন। ভারতের কালো তালিকা ডা. রহমান নিজে বিষয়টাকে রাষ্ট্রের সম্মানের আলোকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। তিনি ভারতীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণ ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে না দেখে, বাংলাদেশের প্রতি বিরূপ মনোভাব হিসেবে দেখছেন।
কিন্তু আসলে ঘটনা কি তাই? ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ডা. রহমান অনেক দিন আগে থেকেই ভারতে কালো তালিকাভুক্ত। ডা. রহমানের ইউটিউব চ্যানেলকে দিল্লি ‘ভারত-বিরোধী প্রচারণা’ হিসেবে গণ্য করে বলে— সেটা অনেক দিন যাবত ভারতে ব্লক করে রাখা হয়েছে।
“এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল লোকজন জানিয়েছেন, জাহেদ উর-রহমানের ভারত-বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার লম্বা ইতিহাস আছে, যে কারণে তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ভারতে ব্লক করা হয়েছে এবং এই কারণেই তাঁর নাম নজরদারির তালিকায় রয়েছে,” দ্য হিন্দুস্তান পত্রিকা ১৬ই জুন এক রিপোর্টে জানায়।
সম্ভবত নজরদারির তালিকায় ড. রহমান-এর নাম থাকার কারণেই দিল্লি বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তারা এই অতিথি সম্পর্কে আরও তথ্য যাচাই করতে চেয়েছেন। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, কে দেশে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সব দেশের অভিবাসন কর্মকর্তাদের আছে।
তার মানে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান দেখানোর জন্য করা হয়েছে, এই কথা যত শক্তভাবে বলা হয়েছে, আসল ব্যাপার সেরকম না হবার সম্ভাবনাই বেশি। বিষয়টা ব্যক্তি জাহেদ উর-রহমানকে নিয়ে হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে, যদিও তিনি নিজে বিষয়টি সেভাবে দেখছেন না।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও প্রশ্ন
কিন্তু এখানে, ডা. রহমানকে বা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনারকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। প্রশ্ন করা যায়, যারা ডা. রহমানকে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য দিল্লি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, তারা কি জানতেন তিনি ভারতীয় ব্ল্যাক লিস্টভুক্ত? না জানার তো কথা নয়। তাহলে, তিনি যাওয়ার আগে কালো তালিকা থেকে তাঁর নাম সরানোর জন্য কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হল না কেন?
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে বলা হয়েছে যে, সম্মেলনে জাহেদ উর-রহমানের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই অবগত ছিল। তাদের উচিত ছিল তাঁর নাম কালো তালিকা থেকে তুলে নেওয়া, যাতে বিমানবন্দরে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝা-বুঝি না হয়। তারপরও, অভিবাসন কর্মকর্তাদের যদি আরও অনুসন্ধান বা যাচাই-এর প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে পুরো পরিস্থিতি তাদের ডা. রহমান এবং বাংলাদেশের হাই কমিশনারের কাছে শুরুতেই ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। সেটা করা হলে ডা. রহমান হয়তো আর ব্যক্তিগতভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে, কোনোভাবেই অপমানিত বোধ করতেন না।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে দিল্লি বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা অন্য কোনও ‘বার্তা’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিনা, বোঝা মুশকিল। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে মন্থর গতিতে আগাচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ নেই।
মোদির আমন্ত্রণ ও তারেক রহমানের চীন সফর
গত ফেব্রুয়ারি মাসে, নরেন্দ্র মোদি সদ্য নির্বাচন-জয়ী তারেক রহমানকে সপরিবারে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর ঢাকার দিক থেকে খুব একটা উচ্চ-বাচ্চ্য নেই। কিন্তু এরই মধ্যে তারেক রহমানের চীন সফর প্রায় নিশ্চিত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান ও ভারতের কিছু মিডিয়া খবর দেয় যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই খবর ঢাকায় পাকিস্তানের দূতাবাস নাকচ করে দিলেও, ভারতে গুঞ্জন থেমে নেই। তাহলে ভারত কি ধরেই নিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির দিকেই যেতে থাকবে? সেটা ভাবার সময় এখন আসেনি।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার ও বিতর্ক
ভারত সম্প্রতি গতানুগতিকভাবে একজন সিনিয়র কূটনীতিককে ঢাকায় হাইকমিশনার পদে নিয়োগ না করে, একজন অভিজ্ঞ রাজনিতিককে পাঠিয়েছে। দিনেশ হিরালাল ত্রিবেদী বাঙালি না হলেও, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা আছে এবং একসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন।
ব্যতিক্রমী এই নিয়োগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতি সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি বহন করে, যদিও শুরুতেই তাঁর একটি মন্তব্য নিয়ে ঢাকায় বেশ জোরালো বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে স্থলপথে প্রবেশ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসামের প্রখ্যাত গায়ক ভুপেন হাজারিকার গানের সূত্র ধরে দুই দেশের মানুষের “একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণার” কথা বলেন। দুই দেশের মানুষকে এক করে দেখার কথা বলেন।
একজন কূটনীতিক যেভাবে মেপে কথা বলেন, একজন রাজনীতিক ঠিক সেটা করেন না। তাঁর সেই প্রশিক্ষণ বা শৃঙ্খলা নেই। কিন্তু একজন কূটনীতিক শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ভাবেন, তিনি হিসাব করেন— বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কী সম্ভব না। রাজনিতিক ভাবেন, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কী করা সম্ভব, তা নিয়ে।
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকে ত্রিবেদীর কথায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত পেলেন। যদিও, একজন নব-নিযুক্ত হাইকমিশনার দেশে প্রবেশ করেই বাংলাদেশকে গিলে ফেলার হুমকি দেবেন, একথা ভাবা নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। কিন্তু তারা অবশ্যই নির্বোধ নন। নিজেদের ভারতবিরোধিতার প্রমাণ জাহির করার এটা ছিল একটা সুযোগ, এবং সেই সুযোগ হাতছাড়া করলেন না জামায়াত, এমনকি বিএনপির কিছু দায়িত্বশীল নেতা।
ত্রিবেদীর মতব্য নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটার আগেই আসলো জাহেদ উর-রহমানকে নিয়ে এই ‘দিল্লি কাণ্ড।’
অশনি সঙ্কেত ও পর্যবেক্ষকদের মত
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে খোদ ভারতের অনেক পর্যবেক্ষক অশনি সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন যে, নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর সার্ক-অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বের যে ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থে সেখান থেকে দিল্লি সরে গেছে।
“বাংলদেশের প্রতি বিরূপ মনোভাবের প্রকাশ দেশের ভেতরের জন্য ভালো চাল হলেও, ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য তা কোনও কাজে আসে না,” ভারতের অভিজ্ঞ সাংবাদিক রাজদীপ সারদেসাই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা এক মন্তব্যে লিখেছেন। সারদেসাই বলেন যে, ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি আর প্রতিবেশীর সাথে অবন্ধুসুলভ আচরণ একসাথে যেতে পারে না।
ক্রিকেটে ‘মর্যাদার লড়াই’
বাংলাদেশের মিডিয়াতে দিল্লি বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনই জাহেদ উর-রহমানের পদক্ষেপকে বাহবা দেওয়া হয়েছে। তবে, ঠান্ডা মাথায় বিবেচনা করলে ঘটনা সম্পূর্ণ সাদা-কালো মনে নাও হতে পারে। দিনের শেষে, সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল তাদের ‘নেতা’ ছাড়াই যোগ দিয়েছে। ডা. রহমানকে নিশ্চয় কোনও বিশেষ কারণে এই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল, এবং সেখানে নিশ্চয়ই তাঁর বিশেষ ভূমিকা পালন করার কথা ছিল।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রের অনুভূত ‘মর্যাদা’ রক্ষা করতে গিয়ে আসল কাজটিই করা হলো না। এখানে লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ সরকারের দায়িত্বশীল লোকজনদেরই করতে হবে। তবে ঘটনা দেখে ভারতের সাথে আরেকটি ‘জাতীয় মর্যাদার’ লড়াই এবং তার লাভ-ক্ষতির কথা না বললেই নয়।
কয়েক মাস আগের কথা। ইন্ডিয়ান প্রেমিয়ার লীগের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোটা অঙ্কে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ার পর হুট করে জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। দ্রুতই বোঝা যায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর নির্দেশে কেকেআর-এর এই উদ্ভট কাজটা করতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবির মুখেই বিসিসিআই এই পদক্ষেপ নেয় বলেও জানা যায়।
সেই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে সবাই মাথা ঠান্ডা রেখেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) হয়তো সরাসরি বিসিসিআই-এর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করতো। আলোচনা হতো, হয়তো কোনও সমঝোতাও হতে পারতো।
কিন্তু স্বাভাবিক আলোচনার পথ প্রায় শুরুতেই বন্ধ করা হয়— যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-২০ বিশ্ব কাপ-এ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে খেলতে না যাওয়ার কথা বলেন। এই এক কথায় বিসিবির জন্য সব কূটনৈতিক দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউনূসগোষ্ঠীর ‘আদর্শ’ এর পরে অনেক ঘটনা ঘটেছে, নাটক হয়েছে; পাকিস্তান ‘বড় ভাই’ সেজে হাজির হয়েছে, নিজেই বয়কটের হুমকি দিয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে— মন্ত্রী ‘পলিটিকাল পয়েন্ট স্কোর’ করতে গেলেন, কিন্তু শুরুতেই ‘জাতীয় মর্যাদার’ প্রশ্ন তুলে সেখান থেকে পিছু হঠার রাস্তা বন্ধ করে দেন।
বাংলাদেশ নিজেই নিজেকে ঘরের কোনায় নিয়ে গেলো, দেয়ালে পিঠ, বের হবার রাস্তা নেই। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ-এ কোনও পরিবর্তন আসলো না, পাকিস্তানও বয়কট করলো না, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারালো, আর বাংলাদেশ হারালো বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চে তার কষ্টার্জিত স্থান।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অপমানিত বোধ করে ফিরে আসলেও তাঁর সফরসঙ্গী দুজন কর্মকর্তা আইওআরএ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা যে ভারতবিরোধীদের সূরে গান গাইবেন, সেটা অবাক করার মতো কিছু ছিল না। ইউনূস সরকার যাদের সমর্থনে ক্ষমতাবান ছিল, তাদের ‘আদর্শগত’ ভিত্তি ছিল ভারত-বিদ্বেষ এবং আওয়ামী লীগ বিরোধিতার ছদ্মাবরণে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার প্রচেষ্টা।
অবাক করার বিষয় হচ্ছে যে, বিএনপি সরকারের শুরু থেকে ভারতের সঙ্গে নতুন করে পারস্পরিক স্বার্থর ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে বলে ধারণা হচ্ছিল। যেই সুযোগ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদির বার্তা এবং আমন্ত্রণ তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিশাল পটভূমিতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে ছোট-খাটোই মনে হয়। কিন্তু এরকম ছোট ঘটনা পুঁজি করে জনমনে নতুন করে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া কতটা বিচক্ষণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। সস্তা জনপ্রিয়তার অন্বেষণ বুদ্ধিদীপ্ত কূটনীতির বিকল্প হতে পারে না।
ভারতের সঙ্গে ‘চোখে চোখ রেখে কথা বলার’ আরও বড় এবং উপযুক্ত বিষয় আছে, যেমন- অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং ট্রানজিট, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি ইত্যাদি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জনমনে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও, সরকার কীভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে, সেটা তাদের কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় বহন করবে।



