পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম আজ শনিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিস্তারিত সূচি তুলে ধরেন।
মালয়েশিয়া সফর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। এটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা দুই দিনের জন্য নির্ধারিত। ২২ জুন রাতে তিনি কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ান প্রদেশে যাবেন।
মালয়েশিয়ায় আলোচ্য বিষয়
২২ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার ইস্যুতে থাকবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
চীন সফর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দালিয়ানে আগমন ও ডব্লিউইএফ সভা
২২ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে। ডব্লিউইএফ-এর বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
একই দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
বেইজিং সফর
২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কিল’। পরে দুপুরে তিনি ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাবেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান করবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। পরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন এবং চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।
বিকেলে চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হবে। পরে তিনি তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি জানান, বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে।



