ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান লক্ষ্য সামনে
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিরসনের জন্য ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দুটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখেছে। মূলত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অবাধ অধিকার নিশ্চিত করতেই এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। আল-জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজাল্যান্ড জর্ডানের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের মূলে থাকা অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে এই দুটি পয়েন্টেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই লক্ষ্য বিশদভাবে
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা এই আলোচনার একটি মুখ্য উদ্দেশ্য। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই কর্মসূচির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি হলো, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে আনা হোক, যাতে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা: সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা। বর্তমানে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান যে প্রবেশ ফি বা ট্রানজিট ফি আদায় করছে, তার অবসান ঘটিয়ে জলপথটির ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে চায় ওয়াশিংটন। এই প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, তাই এর উন্মুক্ততা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাওয়া বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাত্র একদিনের আলোচনায় এত বড় দুটি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। মূলত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি পেতেই এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসাকে সঠিক সময় বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



