দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভারতীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বৈত বৈঠক
দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মাথায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের মূল বিষয়
মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়শঙ্কর ও রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করে জয়শঙ্কর জানান, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, অভিন্ন স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”
শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে আলোচনা
সন্ধ্যায় ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার। এ বিষয়ে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র প্রসারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়:
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি
- প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে যৌথ উদ্যোগ
- সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন
- কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সহযোগিতা
এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই বৈঠকগুলো সেই ধারাবাহিকতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা ভবিষ্যতে আরও সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।



