ইরানিরা রাজপথে নামতে পারছেন না কেন? ট্রাম্পের ব্যাখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের রাজপথে না নামার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। এয়ার ফোরস ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে ইরানিরা একটি ‘সন্ত্রাসী’ নেতৃত্বের শাসনের অধীনে রয়েছে, যারা বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
প্রাণভয়ের কারণে নীরবতা
ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতৃত্ব ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে। আর এই প্রাণভয়ের কারণেই সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামতে পারছে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি সরাসরি বলেন, “আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি কেন তারা এটা (প্রতিবাদ) করছে না।”
পূর্বের আহ্বান ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরুর পর ট্রাম্প দেশটির সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান কেন ঘটছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানিদের এই নীরবতার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি
সাক্ষাৎকারে এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান যে তিনি নিজেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে প্রস্তুত কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি এখনই সেটা করতে চাই না এবং তার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে আমি এটা বলতে পারি যে তারা (ইরান) ধ্বংস হয়ে গেছে।”
তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়কেই তিনি নিজের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জনগণকে ভীত ও নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাঝে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতার আরেকটি দিক তুলে ধরছে, যেখানে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



