বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে দেশ-বিদেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ ইফতার মাহফিলে দেশ-বিদেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
জামায়াতের আমিরের বক্তব্য: শান্তি ও সহযোগিতার আহ্বান
ইফতার মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত কূটনীতিক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “পারস্পরিক বোঝাপড়া, ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমরা আশা করি।” রমজানের শিক্ষা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “রমজান মানুষকে সংযম, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবকল্যাণের দিকে আহ্বান জানায়। এ মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করা গেলে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”
ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া দেশ ও সংস্থার তালিকা
ইফতার মাহফিলে যেসব দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, তুরস্ক, ইরান
- কানাডা, ফিলিস্তিন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভ্যাটিকান সিটি, ব্রুনাই
- মালদ্বীপ, আলজেরিয়া, কসোভো, মিশর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার
- ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, নেপাল, ফিলিপাইন, নেদারল্যান্ডস
- ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া
এছাড়াও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও জামায়াতের এ ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- ইউএনডিপি (United Nations Development Programme)
- ইউএনএইচসিআর (United Nations High Commissioner for Refugees)
- ইউনিসেফ (United Nations Children's Fund)
- ইউএনওডিসি (United Nations Office on Drugs and Crime)
- ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (Democracy International)
- আইওএম (International Organization for Migration)
এই ইফতার মাহফিলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি রমজানের পবিত্র মাসে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



